8.3 C
New York
Friday, August 7, 2020
Home রাজনীতি অস্থির তৃণমূল আওয়ামী লীগ

অস্থির তৃণমূল আওয়ামী লীগ

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে অভিমানে দূরে সরে যাচ্ছেন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা

সুবর্নবাংলা ডেস্ক-

টানা তৃতীয় মেয়াদেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর মুনাফালোভী এমপি ও নেতা। এসব এমপি ও নেতারা নিজ নিজ এলাকায় বলয় গড়ে তোলার মধ্যদিয়ে একপ্রকার রাম রাজত্ব করছেন। দলের দায়িত্বশীল অধিকাংশ এমপি ও নেতার বলয়ভিত্তিক রাজনীতির কারণে প্রায়ই ঘটছে হামলা-মামলা, সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা। এসব কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের রাজনীতি।

এসব অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে অভিমানে দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছেন দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা। জানা গেছে, দেশজুড়ে স্থানীয় এমপি ও নেতাদের মধ্যে গড়ে উঠা দ্বন্দ্ব-গ্রুপিংয়ে একের পর এক মামলার শিকার হচ্ছেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

ক্ষমতার লড়াইয়ে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং রাজনীতির কারণে একদিকে যেমন দল জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে অপরদিকে অভিমানে দূরে সরে যাচ্ছেন দলটির ত্যাগী, পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত নেতারা। তাই অভ্যন্তরীণ এসব দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষপর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার নামে কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। টানা ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূল আওয়ামী লীগে এক প্রকার এমপি বনাম তৃণমূল আওয়ামী লীগের মধ্যে বলয় সৃষ্টি হয়েছে। আর দলে বলয়ভিত্তিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় এমপি ও তার ছত্রছায়ায় থাকা নেতাকর্মীরা।

এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো নির্বাচনী এলাকা। তাদের দাপটে দলের সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। বর্তমান এমপিরা নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে নিজের পছন্দের লোকজনকে প্রাধান্য দেয়াসহ নানা অনিয়ম, বিলাসিতা, স্বজনপ্রীতিসহ নয়-ছয় গ্যাঁড়াকলে জড়িয়ে পড়ায় অধিকাংশ এমপির গ্রহণযোগ্যতা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন।

একই সাথে তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে কারণে দলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দল ক্ষমতায় থাকলেও বিনা কারণে দলের অনেকের নামেই মামলা দেয়া হচ্ছে। আর দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন হাইব্রিড আওয়ামী লীগ এবং ভিন্নপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানী ঢাকাতেই দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব চলছে। এসব দ্বন্দ্বের কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি থানার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। একই অবস্থা রাজধানীর বাইরের বেশ কিছু জেলা-উপজেলায়ও।

অস্থিরতা নিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও দলটির সব সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি। তাদের এক পক্ষে নেতৃত্ব দিতেন সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এবং অন্য পক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না। দীর্ঘদিন জেলায় গ্রুপিং থাকলেও হঠাৎ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

বিশেষ করে সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর থেকেই ক্রমশই বাড়তে শুরু করেছে দুপক্ষের সংঘর্ষ।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের সভাপতিম-লীর সদস্য সদ্যপ্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে গত ২৬ জুন দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জেলা ছাত্রলীগ। এসময় দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে আসেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও জামতৈল সরকারি হাজি কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি এনামুল হক বিজয়।

দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় তাকে মাথায় কুপিয়ে জখম করে একদল সন্ত্রাসী। এর ৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিজয়। মৃত্যুর পর গত মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তার স্মরণ সভায় জেলা ছাত্রলীগের দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। যার প্রভাব পড়েছে পুরো জেলাজুড়ে। ভয় আর আতঙ্কে অনেকেই গাঢাকা দিয়েছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসকালে জেলার এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

জানা যায়, পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদের গ্রুপের সাথে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার সঙ্গীদের কথাকাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় একদল যুবক হাবিব ও নাসিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান হাবিব।

এর আগে থেকেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল। যার নেতৃত্ব দিতেন আ.লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। গত ৬ জুন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নিজেদের মধ্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক মোবারক হোসেন ও ফতুল্লা ইউনিয়ন ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সমর্থিত দুটি গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের আটজন নেতাকর্মী আহত হন।

গত ২৬ মে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্লাপুর ইউনিয়নে আ.লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, দলীয় কোন্দল ও পূর্বশক্রতার জেরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংষর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান মাহমুদ গ্রুপ ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা খোকন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধসহ ১৩ জন আহত হন। তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর বাউফলে আ.লীগের দু’পক্ষের মধ্যে গত ২৪ মে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংসদ আ স ম ফিরোজের সাথে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হকের বিরোধ চলে আসছিল।

কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে করণীয় বিষয়ে লেখা-সংবলিত একটি তোরণ নির্মাণ করছিলেন মেয়র পক্ষের লোকজন। ওই তোরণ নির্মাণে বাধা দেন স্থানীয় সাংসদপন্থীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মেয়র। তখন দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে তাপস নামের এক যুবলীগ কর্মী নিহত হন। অন্তত ৯ জন আহত হন।

দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় কোন্দলে জর্জরিত মাদারীপুর আ.লীগের রাজনীতি। গত ৩ মে জেলার সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরেই জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক বিল্লাল মোল্লার সাথে একই এলাকার উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি রাজু হাওলাদারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

ওই দ্বন্দ্বের জের ধরেই দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়। এছাড়াও দেশের বেশকিছু স্থানে বিভিন্ন সময় নিজ দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলছে। আর অধিকাংশ সংঘর্ষের নেতৃত্বে দেন স্থানীয় সাংসদ এবং সাংসদপন্থী নেতারা। তাদের দাপটে দিন দিন দুর্বল হচ্ছে দলটির তৃণমূলের রাজনীতি।

এ বিষয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলের নেতাকর্মীও অনেক। সবার মাঝে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু প্রতিযোগিতার নামে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত ১৪ জুন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে পাবনার চাটমোহরে প্রতিপক্ষের অস্ত্রাঘাতে নিহত হন হাবিবুর রহমান হাবিব নামের এক ছাত্রলীগ নেতা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, সারা দেশের দলীয় নেতাকর্মীদের সব কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে।

যারা দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে বিভেদের রাজনীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আমাদের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

দলের অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টি করে যারা ফায়দা লুটতে চায় তাদের ছাড় দেয়া হবে না জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম কামাল হোসেন। তিনি বলেন, যেসব স্থানে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগে কোনো বিশৃঙ্খলাকারীর স্থান হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র-ইন্টারনেট/এসএমবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ফুলপুরে উল্লা বিলে নৌকা ডুবে এক যুবকের মৃত্যু

ময়মনসিংহ ফুলপুর প্রতিনিধি মোঃ কামরুল ইসলাম খান                            

ভালুকায় অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের উত্তর তালাব খইয়ার খাল থেকে অজ্ঞাত (৫০) মহিলার লাশ উদ্ধার...

আটপাড়ায় বিষ্ণুপুর গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

মো: আসাদুজ্জামান খান সোহাগ (আটপাড়া) নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার আটপাড়ায় বানিয়াজান সদর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ২৮টি হতদরিদ্র...

কেন্দুয়ার ধর্ষণ মামলার দুই আসামীকে আদালতে সোপর্দ

কেন্দুয়া প্রতিনিধি- বিয়ের প্রলোভন দিয়ে পৃথক দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কেন্দুয়া থানার পুলিশ সিরাজুল ইসলাম ও মোঃ হাইতুল মেহেদী...

Recent Comments