1. admin@subornobangla.com : admin :
  2. biplob.rajgouri@gmail.com : Seikh Biplob : Seikh Biplob
  3. subornobanglabd@gmail.com : Editor : Ronty Chowdhury
  4. hkgouripur@gmail.com : Humayun : Humayun
মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০২:২৬ অপরাহ্ন

আমাদের অহংকারের প্রতীক পদ্মা সেতু

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৩ দেখা হয়েছে

মোল্লা তানিয়া ইসলাম তমা-

বাংলাদেশের জন্য সূচিত হলো গর্বিত এক নতুন অধ্যায়, আর সেই অধ্যায়টি সূচিত হলো বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর শেষ স্প্যানটি বসার মাধ্যমে । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রতয়ে । পর্বতসম অটল শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে সব অপশক্তি ।

কারো অনুদানে নয়, সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে প্রমত্তা পদ্মাকে পরাস্ত করে এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান দেশের দীর্ঘতম পদ্মা বহুমুখী সেতু । এই সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগে নিয়ে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন । সেই সঙ্গে বদলে যাবে গোটা বাংলাদেশের অর্থনীতি ।

২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা । নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার গঠন করেই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা । এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক, জাইকা অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিও দেয় । কিন্তু ঘুষ দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ তুলে পরে ১২০ কোটি ডলারের অঙ্গীকার থেকে সরে যায় বিশ্বব্যাংক । অন্য বিদেশি সংস্থাগুলোও একই পথ অনুসরণ করে । কঠিন সেই সময়ে অবিচল প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু হবেই এবং তা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে । দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদেরা সে সময় এই ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছিলেন ।

বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন । তবে তাদের অবিশ্বাসকে মিথ্যা প্রমাণ করে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সমৃদ্ধি, অহংকার ও সাহসের প্রতীক হিসেবে পদ্মার বুকে এখন দৃশ্যমান সেতুর মূল কাঠামো । দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক বিপুল গতি তৈরি হবে পদ্মা সেতুর কারণে । এরই মধ্যে সরকারের সম্ভাব্যতা জরিপে বলা হয়েছে, সেতুটি চালু হলে দেশের জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে । দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আয় বাড়বে এক দশমিক চার শতাংশ, ৭ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে । বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১ শতাংশ হারে । জাইকার সমীক্ষাতে বলা হয়েছে, জিডিপি বাড়বে ১ দশমিক ২ শতাংশ ।পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন ২১ হাজার ৩০০ যানবাহন চলাচল করবে । ২০২৫ সালের দিকে এ সংখ্যা বেড়ে হবে ৪১ হাজার ৬০০ ।

এসব হিসাবের বাইরে অনেক অর্থনীতিবিদের ধারণা, পদ্মা সেতুর কারণে দেশের জিডিপি ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে । আর সেটি ঘটলে কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের অর্থনীতিকে দেখা যাবে সম্পূর্ণ নতুন রূপে । মানুষের জীবনমানে আসবে অভাবনীয় পরিবর্তন । ২০৪১ সালে ১৬ হাজার ডলারের বেশি মাথাপিছু আয় নিয়ে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার যে স্বপ্ন বাংলাদেশের সামনে, সেটা পূরণ সময়ের ব্যাপার মাত্র । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ ।

টাকার অঙ্কে আকার ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা । পদ্মা সেতুর কারণে প্রথম বছরে জিডিপি যদি দেড় শতাংশও বাড়ে তাহলেও এর সার্বিক অর্থমূল্য হবে ৪১ হাজার ৯৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা । আর জিডিপি ৩ শতাংশ বাড়লে সার্বিক অর্থনীতিতে ৮২ হাজার কোটি টাকার বেশি স্ফীতি ঘটবে প্রথম বছরেই । এই সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের ২৭ জেলায় ভারী শিল্পের পাশাপাশি এসএমই খাতে বিপ্লব ঘটবে । বিকশিত হবে পর্যটন খাত । পায়রা সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাড়বে পণ্য আমদানি-রফতানি । পায়রা ও মোংলা বন্দর, বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে ।

এতে আমূল বদলে যাবে পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতি । পদ্মার দুই পারে আধুনিক স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে । এরই মধ্যে বদলে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা । সেতু চালু হলে ট্রেন পৌঁছাবে দক্ষিণের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত । মাত্র কয়েক বছর আগেও এসব ছিল গল্পের মতো । এখন তা বাস্তবে রূপ নেয়ার দ্বারপ্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই স্বপ্নের চূড়া স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে গোটা জাতিকে এগিয়ে দিচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু ।

এ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হওয়ার মধ্যেই তিনটি বিশ্ব রেকর্ড করে ফেলেছে পদ্মা সেতু । একটি হল- পদ্মা সেতুর পাইলিং। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীলরা বলছেন, পদ্মা সেতুর খুঁটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়েছে । এসব পাইল তিন মিটার ব্যাসার্ধের । বিশ্বে এখনও পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে পাইলিং হয়নি এবং মোটা পাইল বসানো হয়নি । দ্বিতীয় রেকর্ড হল, ভূমিকম্প থেকে পদ্মা সেতুকে টিকাতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং’ লাগানো হয়েছে । যেই বিয়ারিংয়ের সক্ষমতা ১০ হাজার টন । এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি ।

রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকতে পারবে পদ্মা সেতু । আর তৃতীয় রেকর্ড হল, নদীশাসন । নদীশাসনে চীনের ঠিকাদার সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সঙ্গে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে । এর আগে নদীশাসনে এককভাবে এত বড় দরপত্র বিশ্বে আর হয়নি । এ ছাড়া পদ্মা সেতুতে পাইলিং ও খুঁটির কিছু অংশে অতি মিহি (মাইক্রোফাইন) সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এসব সিমেন্ট অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা হয়েছে। এ ধরনের অতি মিহি সিমেন্ট সাধারণত ব্যবহার করা হয় না ।

সুবর্নবাংলা-এসএমবি

সোস্যাল মিডিয়াতে আমাদের খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় অন্যান্য খবর
© All rights reserved © 2020 SuborboBangla
Theme Download From ThemesBazar.Com